নারায়ণগঞ্জে জিগজ্যাগ ইটভাটার ছাড়পত্র ও লাইসেন্স এর দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্বারকলিপি প্রদান

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : নারায়ণগঞ্জে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (সংশোধন) ২০১৯ বর্ধিত জিগজ্যাগ ইটভাটার ছাড়পত্র ও লাইসেন্স প্রাপ্তি এবং বর্তমান কয়লা সংঙ্কট সমাধানের দাবিতে ইটভাটা মালিক সমিতির নেরতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সামনে মানববন্ধন ও একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রধান করেন।

রোববার (২৭ নভেম্বর) সকালে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির আয়োজনে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রধান করেন।

স্মারকলিপিতে ইটভাটার ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশের ইটভাটার মালিকগণ বিগত ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ইটভাটা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। দেশের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িসহ সকল অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত ইট সরবরাহ করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, ঢাকা শহরে মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রসহ আরো অন্যান্য প্রকল্প নির্মাণের মাধ্যমে দেশে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই দুরদর্শী উন্নয়নের সঙ্গে সমতা রেখে ইটভাটা মালিকগণ বায়ুদূষণ রোধে বিগত ২০০২ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের জারিকৃত পরিপত্র মোতাবেক সনাতন পদ্ধতি ড্রাম চিমনীর পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব ১২০ ফুট উচ্চতা স্থায়ী চিমনী ইটভাটা বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০১০ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের গণবিজ্ঞপ্তিতে তৎকালিক ১২০ফুট উচ্চতার চিমনীর পরিবর্তে আগামী ২ বছরের মধ্যে জিগজ্যাগ/হাইব্রিড হফম্যান কিলন/ভার্টিক্যাল শ্যাফট কিলন, ট্যানেল ইত্যাদি প্রযুক্তির ভাটায় রূপান্তরিত করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। সেই নির্দেশ মোতাবেক জিগজ্যাগ ভাটা স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ব্যবসায়ীরা। যা বাস্তবায়নে আবারো প্রতি ভাটায় দুই কোটি টাকার অধিক ব্যয় হয় এবং সেই লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে জিগজ্যাগ ভাটার রূপান্তর কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। বর্তমানে সারা বাংলাদেশে প্রায় ৯৮ভাগ ইটভাটা জিগজ্যাগ প্রযুক্তিতে রূপান্তর রয়েছে। জিগজ্যাগ ভাটা জ¦ালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব। ২০১৩ সালের ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনের জিগজ্যাগ ভাটা বৈধ পদ্ধতির উল্লেখ থাকলেও উক্ত আইনের ৮(৩) (ঙ) এবং ৮(৩) (খ) উপ-ধারায় দূরত্ব নির্দিষ্ট করণের কারণে দেশের অধিকাংশ জিগজ্যাগ ইটভাটা অবৈধ হয়ে পড়ে। ফলে মালিকগণ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স পাচ্ছে না।

উক্ত মানববন্ধনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ইটভাটা ব্যবসায়ী সমিতির নেতা শওকত আলী, আব্দুল গফুর রাজা, আজিজুল হক আজিজ, মোমেন খান, নজরুল ইসলাম বাবুল, সলিম উল্লাহ, জয়নাল বেপারী, আব্দুল হামিদ, মিজানুর রহমান, হারুন রশিদ, ইলিয়াস মোল্লা, জয়নাল মাদবর, রওশনসহ প্রমূখ।