নগরীতে ৭ দফা দাবিতে কর্মবিরতির সমর্থনে শহরে নৌ শ্রমিকদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ  মিছিল

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : নৌ-শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরী ২০ হাজার টাকা গেজেটের মাধ্যমে অবিলম্বে ঘোষণাসহ ৭ দফা দাবীতে নগরীতে সাধারণ নৌ শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এর সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারন নৌ-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। আগামী ২৮ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সারাদেশে একযোগে নৌপথে অবিরাম কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ নৌ শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। 


বুধবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে এ কর্মবিরতির কর্মসূচী সমর্থন ও পালনের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লারের সামনে  এ মানববন্ধন  অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ শিকদার এ সময় বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ৫ বছর পর পর শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির গেজেট প্রকাশের কথা রয়েছে। কিন্তু নৌযান শ্রমিকদের মজুরী স্কেল বাস্তবায়নের মেয়াদ ১৭ মাস আগেই শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শ্রম মন্ত্রনালয় কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। আমরা বিভিন্ন সংগঠন ফেডারেশন শ্রমিকদের মজুরী স্কেল বাস্তবায়নসহ নানা দাবিতে একাধিকবার দাবি জানানোর পরে শ্রম মন্ত্রণালয়ে ২টি নামকাওয়াস্তে মিটিং হলেও সেসব মিটিংয়ে মালিকদের বেশীরভাগই ছিল অনুপস্থিত। বর্তমানে নৌযান শ্রমিকদের যে মজুরী সেটাতে জীবনধারণ করা দু:সাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও নৌ শ্রমিকদের বেতন বিন্দুমাত্রও বাড়েনি। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিকলীগ, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন, ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।

তিনি আরও বলেন, গত ১৩ নভেম্বর রাজধানীতে ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলনে নৌ শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধিসহ ৭ দফা দাবিতে যে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে আমরা বিভিন্ন সংগঠন সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছি। আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে সাধারণ নৌ শ্রমিকরা নৌপথে অবিরাম কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে যদি দেশে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাহলে এর দায়ভার শ্রম মন্ত্রণালয় ও মালিকপক্ষকে নিতে হবে।  আমরা সাধারণ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমাদের আন্দোলনকে দমাতে মালিকপক্ষের নিয়োজিত দালালচক্র নানা চক্রান্ত করছে। কিছু নামধারী শ্রমিক নেতা মালিকপক্ষের দালালি করে শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে কর্মবিরতির আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে পারে। তাই আমরা এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। সাধারণ নৌ শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ৭ দফা দাবিসমূহের অন্যতম, ন্যূনতম মজুরী ২০ হাজার টাকা, মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ ১২ লাখ টাকা, নিয়োগপত্র, রিলিজপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান করতে হবে। নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ডাকাতি বন্ধ এবং বিভিন্ন স্থানে বিআইডব্লিউটিএ এর বার্দিং ইজারার নামে চলন্ত জাহাজ থেকে চাঁদাবাজী ও শ্রমিকদের নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিকলীগ, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন, ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।

সাধারণ শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা কোয়ার্টার মাষ্টার আব্দুর রবের সভাপতিত্বে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার, মো: শাহালম, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিকলীগের ইব্রাহিম খলিল, আবু জাফর মুন্না, মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক আক্তার হোসেন, দফতর সম্পাদক কবির হোসেন, সাইফুল ইসলাম, শাহাদাৎ হোসেন, কাওটাইল শাখার নিজাম উদ্দিন, মুন্সিগঞ্জ শাখার ফারুক ইসলাম, ডেমরা শাখার পান্না মিয়া, পলাশ, তারাব শাখার জালাল হাওলাদার, তৈয়ব, সেলিম হারুন মাঝি  সহ প্রমুখ।