সমাজে কমিউনিটি পুলিশিয়ের গুরুত্ব অনকে বেশী – গোলাম দস্তগীর গাজী

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) বলেছেন, সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশের যে সেতু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরী হয়েছে তা সম্ভবপর হয়েছে কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে। আর এতে করে দেশের আইনশৃখলার পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমেছে বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক অপরাধ। এখানে কমিউনিটি পুলিশিং মেম্বারদের দায়িত্ব হচ্ছে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করা। যদি এ প্রক্রিয়া চালু থাকলে তাহলে অপরাধ দমন সম্ভব হবে।

শনিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ‘কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মূলমন্ত্র, শান্তি -–শৃঙ্খলা সর্বত্র’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশ প্রশাস কর্তৃক আযোজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০ টায় দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল’র সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ মঞ্জুরুল হাফিজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী আরও বলেন, আমাদের সমাজে কোন একটি ঘটনা ঘটলে পুলিশ খবর পাবে এবং তারপর সেখানে তারা আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাল্য বিবাহসহ সামাজিক কিছু অপরাধ আছে, এ গুলো ঘটে গেলে পুলিশ গিয়ে কোন লাভ হয় না। তাই যে কোন ধরনের ঘটনার আগেই নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন হয়। আর এ কাজটা সম্ভব একমাত্র কমিউনিটি পুলিশিং সদস্যদের মাধ্যমে। তাই সমাজে কমিউনিটি পুলিশিয়ের গুরুত্ব অনকে বেশী। মাদকের সাথে অর্থ জড়িয়ে আছে, তাই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। তার উপর আইনও অনেকটা দূর্বল। অনেক সময় দেখা যায়, পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে কোর্টে পাঠিয়েছে। কিন্তু মাত্র ৪/৫ দিন পরেই তারা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। এখানে পুলিশেরও কিছু করার থাকে না। তাই মাদক আইন সংশোধন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আইন যদি কঠোর করা হয় তাহলে নারী নির্যাতনের মতোই এই অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে জড়িতরা সুশীল সেজে আমাদের পেছনেই দাঁড়িয়ে থাকে। ভালো মানুষ সাজে, কিন্তু দেখা যায় আমাদের পেছনে যে আছে সে মাদক বিক্রি করছে। মাদক যে খায় সে তো অসুস্থ। তাকে আমি ঘৃণা করি না। এতে আমি কষ্ট পাই। কারণ মাদক খাওয়ার চাইতে যে বিক্রি করছে সে বেশি অপরাধী। এখানে আমরা যারা আছি তাদেও উদেএদশ্যে বলবো আসুন আমরা সকলের একসঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।

অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার (সিপিও) হিসেবে রূপগঞ্জ থানার এসআই হামিদুর রহমান এবং বন্দর থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সহ-সভাপতি কাওসার আহাম্মেদ পলাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ মিহির, অফিস সম্পাদক মোহাম্মাদ কামাল হোসেন ও ফতুল্লা কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি মোস্তফা কামাল সহ অন্যান্যদেও মাঝে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা, র‌্যাব-১১ অধিনায়ক (সিইও) তানভীর মাহমুদ পাশা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. শাহ নেওয়াজ চৌধুরী, কমিউনিটি পুলিশং জেলা কমিটির সহ-সভাপতি কাওসার আহাম্মেদ পলাশ, অফিস সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সোনারগাঁও উপজেলার চেয়ারম্যান এড. শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শওকত আলী, ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন, ফতুল্লা কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি মোস্তফা কামাল, বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মো: মাহাবুব রহমান বাবুল সহ প্রমুখ।