নাসিক ১০নং ওয়ার্ডের ঝুড়ি প্রতিকের প্রার্থী হাজ্বী সিরাজ এর সংবাদ সম্মেলন

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : সম্প্রতি অনুষ্ঠিতব্য নাসিক নির্বাচনে ১০নং ওয়ার্ডের ঝুড়ি প্রতিকের প্রার্থী হাজ্বী সিরাজ এলাকা বাসিদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে নগরীতে সংবাদ সম্মেলন করেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রয়ারী) বিকেলে শগরের চাষাড়াস্থ ড্রিংক এন্ড ডাইন চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ১০নং ওয়ার্ডের ঝুড়ি প্রতিকের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাজী সিরাজ এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকে আমার এই সংবাদ সম্মেলনে কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বা ক্ষোভ নেই। এটা সম্পূর্ণই আমার ব্যাক্তিগত চিন্তা থেকে মতামত প্রকাশ মাত্র। আজ নারায়নগঞ্জ সিটি নির্বাচনের ১ মাস পূরন হলো। আপনারা জানেন, গত ১৬ই জানুয়ারী নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পূর্ণ হয়। আর সেই নির্বাচনে আমি ১০নং ওয়ার্ডের একজন সাধারন কাউন্সিলর পদে “ঝুড়ি” প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করি। আর এই নির্বাচনে আমি কি শিখলাম বা কী পেলাম তা প্রকাশ করার জন্যই আমার আজকের এই সংবাদ সম্মেলন। গত ২০১৬ এর নির্বাচনেও আমি অংশগ্রহন করেছিলাম। কিন্তু সেই নির্বাচন থেকে আমি তখন কিছু শিখিনি। আর এই নির্বাচনে যা পেয়েছি, যা শিখেছি তার প্রসংশা আমি করছি, আলহামদুলিল্লাহ বলে। মনে রাখতে হবে সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ। আমরা শুধু উছিলা। আল্লাহ যাকে পরীক্ষা করতে চান, তাকেই ক্ষমতার চেয়ারে বসান যেভাবেই হোক। গত ২০১৬ইং সিটি নির্বাচনে আমাদের ওয়ার্ডে প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। এই বছর ২০২২ইং এর নির্বাচনে আমি সহ মাত্র ৩ জন প্রার্থী অংশগ্রহন করি। আমি এই বছর নির্বাচনে আসতে অনিচ্ছুক ছিলাম। কিন্তু এসেছি এই প্রথম আমাদের ভোট ইভিএম মেশিনে হবে বলে। যেহেতু আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া নারায়নগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজের পাঠশালার ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা একজন কর্মী।
আমার ১০ নং ওয়ার্ডে সর্বমোট ৫টি কেন্দ্রের মধ্যে আমার নিজের কেন্দ্র গোদনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে পুরুষ কেন্দ্রের ৫টি ও মহিলা কেন্দ্রের ৫টি এবং পাশের প্রাইমারী স্কুলের পুরুষ ও মহিলা কেন্দ্রের ৭টি বুথের হিসাব প্রদান করলেন ডিজিটাল আলোক গতিতে, ৪টা ৩০ মিনিটে। অপরদিকে লক্ষ্য রাখি লক্ষীনারায়ন স্কুলের পুরুষ কেন্দ্রের ১টি বুথ এবং আজিম মার্কেট প্রাইমারী স্কুলের মহিলা কেন্দ্রের ৮টি বুথের ভোটের হিসেব প্রিজাইডিং অফিসারগন প্রদান করলেন বহু প্রতীক্ষার প্রায় ২ ঘন্টা পর। আর তখন এত বেশি সময় লাগার ব্যাপার আজও আমরা কেউ জানতে পারিনি বা জানার প্রয়োজনও বোধ করিনি।
তিনি আরও বলেন, রেজাল্ট প্রদানের পর আমার ঝুড়ি প্রতিকের পুলিং এজেন্টদের ডেকে প্রশ্ন করে জানতে পারি, তাদেরকে কোন বুথের হিসাব প্রিন্ট শিট বা মনিটরে দেখায়নি কর্তব্যরত প্রিজাইডিং অফিসারগন। শুধু কেন্দ্রে ভোটের রেজাল্ট শীট বের করে তাদের হাতে দিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, যারা আগামীতে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক তারা অবশ্যই প্রত্যেক পুলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে হবে ভোট গণনা শেষে ইভিএম মেশিনের কানেকশন রিমুভ করার আগে প্রত্যেক বুথের মনিটরে যেনো প্রত্যেক বুথের ভোট প্রদর্শন করে প্রিন্টশীট মিলিয় দেখিয়ে দেয়া হয়। যাহা প্রার্থীদের তথ্য জানার অধিকার। আমার বিশ্বাস, প্রতিটা ভোটারের ফিঙ্গার ইভিএম মেশিনে ভোট প্রদানের সময় যার যার প্রতীকের সাথে সংরক্ষিত থাকে। আমি লক্ষ্য করতে পেরেছি ভোটারদের ভোট প্রদান শেষে যে কেন্দ্রেই খুব দ্রুত প্রতিটা বুথের মনিটরে ভোটারদের দেওয়া ভোট পুলিং এজেন্টদের প্রদর্শন ছাড়া ডিসকানেক্টেড করে দেওয়া হয়েছিলো, আর সেই কারনে সেখানে কিছু ভুল হয়ে থাকতে পারে, যা আমি নির্বাচনে লক্ষ্য করেছি। আর এমন হয়েছে কিছু কিছু প্রভাবশালী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে। সকল ক্ষেত্রে তা হয়নি। আগামীতে আমার মত তরুণ যারাই নির্বাচন করতে ইচ্ছুক তাদের সবার মনে রাখতে হবে বর্তমান নির্বাচন করতে ৩টি যোগ্যতার প্রয়োজন হয় তা হলো অর্থ, প্রভাব আর কৌশল। প্রত্যেক সমাজের কিছু বিপদগামী লোকদের উদ্দেশ্যে বলছি আপনারা যারা বিজয়ী প্রার্থীদের পক্ষে থেকে পরাজিত প্রার্থীদের কম ভোট পেয়েছে বলে বলে পথে ঘাটে সমালোচনা করে গীবত করে বেরাচ্ছেন। আপনি আপনার নিজের অবস্থান আগে বুঝুন, তারপর অন্যকে নিয়ে সমালোচনা করুন। কষ্ট লাগে যখন তখন কিছু লোভী মানুষদের কারনে সমাজে প্রতিভাবান ভালো মানুষগুলোর নেতৃত্বে আসতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। মনে রাখবেন একটি ওয়ার্ডের সর্বমোট ভোটার সংখ্যার অর্ধেকেরও কম ভোট পেয়ে আপনি নির্বাচিত হয়েছেন। আর তাই আসুন প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে মন জয় করার জন্য সামাজিক কাজগুলো আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য করে যাই। এমনটাই আমার আশা।

উল্লেখ্য, রেজাল্ট শিটের পুলিং এজেন্টদের সিগনেচার গুলো নির্বাচনের দিন সকালে বুথ কক্ষে প্রবেশ করার সময় নিয়েছিলো অথচ সেই সিগনেচার নেয়ার নিয়ম হচ্ছে ভোট গননা শেষে রেজাল্ট শীট বুঝিয়ে দেওয়ার সময়, যাহা আমার দৃষ্টিতে সঠিক হয়নি বলে মনে করি। ১০নং ওয়ার্ডে সর্বমোট ৫টি কেন্দ্রের ৩৪টি বুথের ভোট নির্বাচন পরবর্তী সরজমীনে যাচাই বাছাইয়ে আমি ভোটারদের সাথে আলোচনা করে জানতে পেরেছি, ইভিএম মেশিনের প্রতিটি বুথে আমার প্রকৃত ভোট প্রায় তিন হাজার দুইশত এর বেশি ভোট ঝুড়ি প্রতিক মার্কায় প্রদান করেছে, যাহা অত্র ১০ নং ওয়র্ডে আমার ভোটারদের দাবি। এইসকল ভোটের হিসাব যাচাই বাছাই করে ১ মাস পর আমি আজ সংবাদ সম্মেলনে এসে একটি কথাই সবার উদ্দেশ্যে বলছি। নির্বাচনের মাঠে আমাদের নিজেদের অনেক ভুলের কারনে এইসব সুযোগগুলো কিছু কিছু সুযোগ সন্ধানীরা নিয়ে থাকে। ইভিএম পদ্ধতিকে বিতর্কিত করার জন্য এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ইভিএম পদ্ধতিকে অপব্যবহার করছে কিছু সুবিধাবাদি গোষ্ঠি। যারা হয় ভয়ে না হয় টাকায় এই স্বচ্ছ সহজ স্পষ্ট ইভিএম পদ্ধতিকে মিসগাইড করে পুলিং এজেন্টদের ধোকা দিয়ে বিভিন্ন উপায়ে ভোট প্রদর্শন করে রেজাল্ট শীট প্রদান করে থাকতে পারে বলে আমার ধারনা। আর এজন্য নির্বাচনী সকল প্রার্থীদের সচেতন হতে হবে বলে আমি মনে করি।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্র মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দগণ উপস্থিত ছিলেন।