বেসরকারী শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবীতে নগরীতে মানববন্ধন

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : বেসরকারী শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করনের দাবীতে স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন এর মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে এ সময় বক্তারা বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষ এমপিওভুক্ত শিক্ষক। সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা খাতে পুঁজি বিনিয়োগের চাইতে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর কিছু হতে পারে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ ঘোষণার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে সরকার গত তের বছরে দেশের শিক্ষার উন্নয়নে অনেক যুগান্তকারি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যে শিক্ষা নীতি প্রণয়ন, প্রতি উপজেলায় একটি স্কুল ও কলেজ সরকারিকরণ, বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে কোটি কোটি টাকার বই বিতরণ, ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডের জন্য ১৭০০ কোটি টাকা বরাদ্ধ, বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো নির্মাণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এত কিছুর পরও দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ১৮টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত শিক্ষক কর্মচারীরা এখনো অনেক বৈষম্যের শিকার। যেমন বেসরকারি শিক্ষকগণ মাসিক মাত্র ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং মাত্র ২৫% উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন, যা খুবই অপ্রতুল ও অসম্মানজনক।
তারা আরো বলেন, শিক্ষকদের সুবিধার্থে আমরা ৮দফা দাবী করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে আমাদের দাবী গুলো সরকারের নিকট তুলে ধরছি।
৮ দফা দাবী সমূহ মধ্যে রয়েছে : ১। ঐতিহাসিক মুজিব বর্ষেই শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সার্বজনিন বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা ২। আসন্ন ঈদের পূর্বেই পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান এবং সরকারি অনুরূপ বাড়ী ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদানের জন্য আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা ৩। সরকারি সকল শর্ত পূরণ করে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানকে অতিদ্রুত এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা ৪। শিক্ষা প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মাউশিসহ বিভিন্ন অধিদপ্তর ও শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীদের অবিলম্বে প্রত্যাহার করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সৎ এবং যোগ্য ব্যক্তিদের পদায়ন করা ৫। করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা/বিশেষ বৃত্তি/অনুদান প্রদান, সকল শিক্ষার্থীদের বিনামুল্যে ডিভাইস, খাতা কলম সহ অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী প্রদান এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের (স্কুল, মাদরাসা, ভোকেশনাল) স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে দুপুরে সরকারি উদ্যোগে খাবার সরবরাহ করা ৬। শূন্য পদের বিপরীতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের বদলীর ব্যবস্থা কার্যকর করা ৭। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের শেষ আশ্রয়স্থল শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা ৮। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সৎ যোগ্য ও শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা। স্কুল পর্যায়ে নুন্যতম ডিগ্রী পাশ ও কলেজ পর্যায়ে নূন্যতম মাষ্টার্স পাশ স্বচ্ছ ও ইমেজ সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগদান করা। মানববন্ধন শেষে তারা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক এর নিকট একটি লিখিত স্বারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ব্রজেন্দ্র নাথ সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল করীম, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, মাওলানা মোঃ আব্দুস শাকুর সহ প্রমুখ।