এবারও শম্ভুপুরায় নৌকার ভরাডুবির আশঙ্কা, আব্দুর রউফেই আস্থা

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও উপজেলার শ¤ু¢পুরা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিনের বিপক্ষে নির্বাচনী মাঠে সরব আছেন জাতীয় পার্টির মনোনিত শক্তিশালী প্রার্থী ও এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার ঘনিষ্টজন আব্দুর রউফ। এই আব্দুর রউফ এতটাই শক্তিশালী প্রার্থী যে, গতবারও তার কাছে নৌকার প্রার্থীর লজ্জাজনক পরাজয় হয়েছিলো। এক কথায় শম্ভুপুরা ইউনিয়নবাসী আব্দুর রউফ ছাড়া আর কাউকে চিনেনা, চিনতেও চায় না। কেননা, আব্দুর রউফের সাথে যেন শম্ভুপুরা ইউনিয়নবাসীর এক আত্মার সর্ম্পক গড়ে উঠেছে। যে সর্ম্পককে সহজেই বিচ্ছিন্ন করা যাবেনা। আর তাইতো এক যুগেরও অধিক সময় ধরে এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। আর এবারও তার জনসমর্থন রয়েছে অনেক বেশি। তার উপরই আস্থা রেখেছেন শম্ভুপুরাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শম্ভুপুরা ইউনিয়নে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ। তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর শম্ভুপুরা ইউনিয়নের পুরো মানচিত্রই পাল্টে দিয়েছেন। সরকারি অনুদানের জন্য বসে না থাকে নিজ অর্থায়নে তিনি রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ কালভার্টের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। যার ফলে শম্ভুপুরা ইউনিয়নে যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যান্ত সহজ হয়েছে। তাই শম্ভুপুরা ইউনিয়নবাসীর কাছে তিনি আর্শিবাদপুষ্ট একজন ব্যক্তি। যাকে নিয়ে কখনো কোনদিন কোন প্রশ্নই তুলেননি শম্ভুপুরা ইউনিয়নবাসী। যারফলে এ ইউনিয়নে আব্দুর রউফের বিপরীতে অন্যকোন চেয়ারম্যান প্রার্থী কখনো জয় লাভ করতে পারেনি।

অপরদিকে এ ইউনিয়নে যাকে নৌকার প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, সেই নাসির উদ্দিনকে নিয়েও সন্তুষ্ট নয় শম্ভুপুরাবাসী। কারন তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধীক অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগসহ নদীর বালু উত্তোলনের অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে। শুধু তাই নয়, মেঘনা নদীর বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ নিতে ২০১৫ সালে চরহোগলা গ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন যুবলীগ কর্মী জামাল হোসেন। নাসির উদ্দিন সেই মামলার আসামি ছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে সোনারগাঁ থানায় ও আদালতে একাধিক অভিযোগ ও মামলা। আর এসবের কারণে শম্ভুপুরাবাসী খুব সহজেই তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। যদি তাই হয়, তাহলে এবারও শম্ভুপুরা ইউনিয়নে নৌকার ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে অনেক বেশি।

এ বিষয়ে শম্ভুপুরা ইউনিয়নবাসী বলেন, মরে গেলেও তারা নাসির উদ্দিনকে ভোট দিবেন না। আব্দুর রউফই তাদের আত্মার লোক, এবারও তারা তার পাশেই থাকবেন। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আব্দুর রউফই বিপুলভোটে জয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউনিয়নবাসী।