শীতলক্ষা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে ২০টির অধিক সংখ্যক মামলা রুজু করেছেন সদর নৌ থানা পুলিশ

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : সম্প্রতি মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর উপর সৈয়দপুর-মদনগঞ্জের নির্মাণাধীন শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচে কয়লাঘাট এলাকায় এসকেএল-৩ নামের একটি লাইটার জাহাজের ধাক্কায় সাবিত আল হাসান নামের নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জগামী লঞ্চটি অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ২৪ জনের প্রানহানি ঘটে। ঘটনার ৪দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থেকে জাহাজটিকে আটক করার পর কোস্ট কোস্টগার্ড সদস্যরা জাহাজের ১৪ জন স্টাফকে আটকের পর নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা করেন।

লঞ্চ ডুবির এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল আলম এর নেতৃত্বে তার পুলিশ সদস্যদের সাথে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন। শুধু তাই নয় ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানায় যোগদানের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষা নদীতে নৌ পথে মাদক, বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজি, নদী পথে চোরাই তেল চক্রদের আটক, অবৈধ জাটকা আটক সহ ২০টির অধিক সংখ্যক মামলা রুজু করেছেন।

পাশাপাশি সন্ধার পর থেকে লাইটার জাহার ও বাল্কহেড গুলো নদীতে চলাচলে প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির পর নদীতে নৌ পুলিশের টহল জোরদার করা, প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট করা, সরকার ষোষিত অবৈধ জাটকা মাছ ব্যাসায়ীদের সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা, নদী পথে চাঁদাবাজি রোধ করা সহ আরো গুরুত্ব পূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল আলম।

নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল আলম জানান, আমার এই অত্র থানায় আমি সহ ১২ জন ফুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছি। এদের মধে আমি ছাড়া ২ জন উপ-পরিদর্শক, ২ জন সহকারি উপ-পরিদর্শক সহ বাকি ৬ জন কন্সটেবল নিয়ে নৌ থানাটি পরিচালনা করছি। শীতলক্ষা নদীতে টহলের দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য ১টি মাত্র ক্রান্টি বোর্ড দেওয়া হয়েছে। আর এ কারনে নদীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধ জাটকার খবর পাওয়া গেলে দ্রুত গতিসম্পন্ন স্প্রীড বোর্ড না থাকার কারনে আমাদের স্পটে যেতে অনেক বিলম্ব হয় আর এ সুযোগে অবৈধ জাটকা মাছ ব্যবসায়ীরা অনায়াশেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সময়মত ঘটনাস্থলে পৌছাতে পারলেই মাছ সহ অবৈধ জাটকা ব্যবসাযীদের হাতে না হাতে আটক করা যায়। অনেক সময় নদী পথে দূর্ঘটনার খবর পেলে ধীরগতির ১টি মাত্র ক্রান্টি বোড দিয়ে যেতে অনেক সময় লেগে যায়।

তিনি আরো জানান, অত্র সমর নৌ থানায় একটি দ্রুতগতি সম্পন্নর স্পীডবোড এর ব্যবস্থা করা হলে শীতলক্ষা নদীতে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক বেশী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।