মৌলবাদীদের ধৃষ্টতাপূর্ণ হুমকী দেশের সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চরম অবমাননা ছাড়া আর কিছুই না – চন্দন শীল

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য্যরে বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদানকারীদের বিচার এবং ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার জন্য ধর্মের নামে সন্ত্রাসের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে নগরীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি জেলার উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে চন্দন শীল বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, ৫ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। যে দেশের অন্যতম মূলনীতি হচ্ছে, বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ ও ধর্ম নিরপেক্ষপতা। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শত বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে এই মহান বিশ্ব নেতার ভাস্কর্য্য স্থাপন করা হচ্ছে। তখন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত হেফাজত-খেলাফতের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক নেতারা ওয়াজের নামে বড় বড় সমাবেশ করে ঘোষনা দিচ্ছেন, বাংলাদেশে কোথাও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য্য স্থাপন করতে দিবেনা এবং ইতোমধ্যে স্থাপিত ভাস্কর্য্য বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করবেন। তাদের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ হুমকী দেশের সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চরম অবমাননা ছাড়া আর কিছুই না।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের সকল মুসলিম দেশে শত শত ভাস্কর্য্য আছে। ইতিহাসের মহানায়কদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এমনকি যে সকল ইসলামিক দেশে শরিয়া আইন আছে সেসব দেশেও ভাস্কর্য্য আছে। মোল্লা ওমরের আফগানিস্তান ছাড়া সেসব দেশে কেউ কখনো ইসলামের দোহাই দিয়ে ভাস্কর্য্য ভাঙ্গেনি। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য্য ভাঙ্গার হুমকী দিয়ে পাকিস্তানের মদদপুষ্ট এসব স্বাধীনতা বিরোধী, মৌলবাদী, অপশক্তি বাংলাদেশকে জিয়াউল হকের পাকিস্তান, মোল্লা ওমরের আফগানিস্তানের মত তালেবানী সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে রুপান্তিরিত করতে চায়। উন্নয়ণ প্রতিহত করণের পাশাপাশি বর্হিঃবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার জন্য ওয়াজের নামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এসব সন্ত্রাসী, জিহাদীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা। আমরা এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সামসুজ্জামান ভাষানী, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, সাফায়েত আলম সানী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা জুলহাস উদ্দিন ভূইয়া, ব্যাংক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল কাদীর সহ প্রমুখ।