দেশের গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হলে আবার একটি বিপ্লব প্রয়োজন – এ্যাড. আবুল কালাম

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ এ্যাড. আবুল কালাম বলেন, দেশের মানুষের গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হলে আবার একটি বিপ্লব প্রয়োজন। সেই জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।

শনিবার (৭নভেম্বর) সকাল ১০ টায় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কালিবাজারস্থ মহানগর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, রাতের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগনের রায়কে ভয় পায়। তারা এখন জনবিছিন্ন, মানুষের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে দেশে বাকশাল কায়েম করেছে। তাই এই অবস্থা থেকে দেশের মানুষকে বের করে আনতে হলে আরও একটি বিপ্লব প্রয়োজন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দলের মধ্যে ক্ষমতাশীনদের কিছু দালাল প্রবেশ করেছে যারা বিএনপিকে কলঙ্কিত করতে চাইছে। তাই দলকে কলঙ্ক মুক্ত করতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের নেত্রী সহ দলীয় নেতাকর্মীরা মিথ্যা মামলায় হয়রানীর শিকার। এই পরিস্থিতি থেকে নিজেদেরকে উত্তোলন করতে হলে ঐক্যবদ্ধতার কোন বিকল্প নাই।

মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাড. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আবুল আল ইউসুফ খান টিপুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম মজনু, এ্যাড. রফিক আহম্মেদ, মনিরুজ্জামান মনির, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, মনিরুল ইসলাম সজল, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. আব্দুল মতিন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. মুজিবুর রহমান, সহ-প্রচার সম্পাদক মাকিদ মোস্তাকিম শিপলু, মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব আলী আজগর, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, ওলামা দলের আহবায়ক হাফেজ শিব্বির আহম্মেদ।

সভাপতির বক্তব্যে এ্যাড. জাকির বলেন, গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্যই এদেশ স্বাধীন হয়েছিলো। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রনাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। একটি অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী নিজেই বলেছেন, জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় আমি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সেই গণতন্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে দেশে বাকশাল কায়েম করা হয়ে ছিলো। বর্তমান আবার দেশে বাকশাল কায়েম হচ্ছে। অনির্বাচিত সরকার জনগনের রায় ভোট, বিএনপি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ভয় পায়। তাই রাতের আধারে তাদের সন্ত্রসীদের দিয়ে ভোট চুরি করে। এদেশের জনগণ সব দেখছে সময় হলে এর উচিৎ জবাব ভোটের মাধ্যমেই দিবে।
মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের দিয়েই তাদের নেতা শেখ মুজিব খুন হয়েছিলো। অথচ অনির্বাচিত সরকার প্রধান ইতিহাসকে বিকৃতি করতে সেই হত্যার দায় শহীদ জিয়ার উপরে চাপাতে চাইছে। কারন শেখ হাসিনা জানে এই হত্যার সুষ্ঠ বিচার করলে তার দলের নেতারা ফেসে যাবে।

তিনি আরও বলেন, সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমেই আমরা জিয়াউর রহমানকে পেয়ে ছিলাম। ইতিহাস স্বাক্ষী যে দেশে গণতন্ত্র নাই সে দেশে জনতার বিপ্লবের মাধ্যমেই তা ফিরে আসে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইসমাইল মাষ্টার, আইনবিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. আনিছুর রহমান মোল্লা, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. সুমন মিয়া, প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক বরকত উল্লাহ বুলু, মহানগর বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, সাফী, আনোয়ার হোসেন, হারুন শেখ, মাসুদ চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম বাবু, মানিক, আব্দুর রশিদ হাওলাদার, শওকত আলী লিটন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অহিদুল ইসলাম ছক্কু, যুগ্ম-সম্পাদক রাজু হোসেন রাজু, জাহিদ প্রধান, মহানগর শ্রমিক দলের যুগ্-আহবায়ক খালেদ মাহমুদ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।