কাশিপুরের ৯টি ওয়ার্ডে ত্যাগী ও বিদ্রোহী নেতারাদের পাল্টা নতুন কমিটি ঘোষনা করায় দলীয় ক্ষতির আশাঙ্কা!

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করায় ত্যাগী ও বিদ্রোহী নেতারা পাল্টা নতুন একটি কমিটি ঘোষনা করার কারনে সরকারী দলের চরম ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈকি বিজ্ঞ জনরা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবকাঠামো তৈরী করার লক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের মেয়াদোত্তীর্ণ সকল কমিটির সম্মেলন আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন।

গত রবিবার (২৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ হোসেন রাজু প্রধানের বাসায় ৯টি ওয়ার্ড কমিটির ঘোষনা করেন কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ দুলাল হোসেন।

রাতের আধারে ত্যাগী ও বিদ্রোহী নেতাদের কমিটি গঠনের বিষয়টি রীতিমত রহস্যময় বলে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি আরো জানায়,কাশিপুর ইউনিয়নের যে ৯টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটিতেও বিতর্কিত ব্যাক্তিরা রয়েছেন।

কাশিপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ত্যাগী ও বিদ্রোহী একাধিক নেতা জানান, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফ উল্লাহ বাদল যে কমিটি ঘোষণা করেছিলো আমরা সেই কমিটিতে নেই, আমরা আজকের যে কমিটি গঠন করেছি সেই কমিটিই চলবে।

অপর একটি সূত্র থেকে জানা যায়, এ ধরনের একের পর এক পাল্টা কমিটি গঠন করার বিষয়টি ফতুল্লা থানাসহ গোটা কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতির প্রভাব পড়তে পারে। কারন একদিকে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করা আর অপরদিকে ক্ষমতা লাভ করার মোহে রাম রাজত্ব কায়েম করা। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বর্তমানে নেতৃত্ব নয়, তারা কাজে বিশ্বাস করে। রাজীতিতে নবিন প্রবিন বলে কোন কথা নেই, যারা যোগ্য তাদেরকে বেঁছে নিবে দল। যারা, ছিনতাই- চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা করে অপরের জমি জবর দখল করে নেয়, যারা অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জন করে তাদেরকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রাজনীতির ছায়াতলে আসতে হলে খুব ভেবে চিন্তে আসতে হবে। কারন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোটা দেশে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করছেন।

ত্যাগী ও বিদ্রোহী নেতারাদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন কমিটির করা হলো কাশিপুর ইউনিয়নে ১ নং ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে মো: ইকবাল শেখ, সাধারন সম্পাদক হিসেবে মোঃবাবুল হোসেন, ২ নং ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে মোঃ পিয়ার আলীকে,সাধারন সম্পাদক হিসেবে ছলিম উল্লাহ খান, ৩ নং ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে ইদ্রিস মিয়া, সাধারন সম্পাদক হিসেবে হাবিবুর রহমান হাবিব, ৪ নং ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে এস,এম লিটন, সাধারন সম্পাদক হিসেবে আমান উল্লাহ, ৫ নং ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে হাজী সিরাজুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক হিসেবে মোবারক হোসেন, ৬ নং ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে আবুল কাশেম, সাধারন সম্পাদক হিসেবে তোফাজ্জল হোসেন খান (হাবু), ৭ নং ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে সহিদ উল্লাহ সহিদ, সাধারন সম্পাদক হিসেবে মহিউদ্দিন মুন্সি, ৮ নং ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে শাজাহান, সাধারন সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ আলী, ৯ নং ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে মশিউর রহমান খান মিতুল, সাধারন সম্পাদক হিসেবে মোঃ লিটনের, নাম ঘোষনা করা হয়।

অপর দিকে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ৯টি ওয়ার্ডের পূর্বের কমিটিতে ছিল ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বেপারী, ২নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি বশির আলম (ফাতু), সাধারণ সম্পাদক বদুর উদ্দিন বদু, ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শামীম আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক খবির উদ্দিন খোকন, ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শাহাবউদ্দিন, ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ,৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক মো: মামুন, ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী, ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি রূপচাঁন শিকদার, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির। প্রতিটি কমিটিতে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন করা হয়েছিল। প্রতিটি কমিটিতে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়।