মৃত্যু হওয়ার পরেও মৃত্যুর সদনপত্র মেলেনি সাইফুলের!

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে জরুরী বিভাগে রেজাউল করিম সাইফুল (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হওয়ার পরেও সরকারী হাসপাতাল থেকে মৃত্যু সদনপত্র মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে নিহতের স্বরজনদের!

বৃহস্পতিবার (৭মার্চ) সরেজমিন ঘুরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গিয়ে এমনই তথ্য জানা যায়।
নিহত বৃদ্ধ রেজাউল করিম সাইফুল জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানার বেলতা বানদিঘী এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের পশ্চিমদেওভোগ বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

ঘটনার বিবরনে নিহতের স্বজনরা (নাম প্রকাশে অচ্ছিুক) জানান, চলতি মাসের গত ৩মার্চ বিকেলে বুকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যান তারা। হাসপাতালের বহির্বিভাগের ৪৪২৬৫ নং একটি টিকিট কাটেন এবং জরুরী ভিত্তিতে রোগীটিকে দেখতে বলেন কর্তব্যরত চিকিৎসককে। ততক্ষনে হাসপাতালের বেডেই তার মৃত্যু হলে কর্তব্যরত চিকিসৎসক বৃদ্ধ সাইফুল মিয়াকে ওই টিকেটই রেফার্ড করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে তারা স্বজনরা লাশটি বাড়িতে নিয়ে চলে যান। গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে এসেও মিলছেনা মৃত্যু সনদ।

আরো জানা যায়, জয়পুরহাট জেলার বেলতা বানদিঘী গ্রামের মামুদপুর ইউয়িন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান (শামীম) গত ৫মার্চ বৃদ্ধ সাইফুলেরএকটি মৃত্যু সদন প্রদান করেন। সেই মৃত্যু সনদপত্র থাকা সত্বেও নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরী বিভাগ হাসপাতাল কর্তৃক ওই বৃদ্ধের মৃত্যু সনদপত্রে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। অত্র হাসপাতালের জরুরী বিভাগের টিকিট কাটার (ইনচার্জ) খোরশেদের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই রোগীর মৃত্যুর কারন আমাদের রেজিষ্ট্রারে লেখা নাই।
পরবর্তীতে অত্র হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার আমিত রায়ের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই বিষয়টা দেখার দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। সম্পূর্ণ বিষয়টা আমার নয় অফিসিয়াল।

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের (ভারপ্রাপ্ত) তত্বাবধায়ক ডাঃ জাহাংগীর আলম এর নিকট এ বিষয়ে জানালে তিনি অত্র হাসপাতালে জরুরী বিভাগে গিয়ে যোগাযোগ করার কথা বললে সেখানে গিয়ে জরুরী বিভাগের টিকিট কাটার (ইনচার্জ) খোরশেদ বলেন সিদ্দিক সাহেবের সাথে কথা বলেন।

অত্র হাসপাতালে সদনপত্র বিক্রির একটি দালাল চক্র রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা যায়!