হুন্ডি ব্যবসায়ী ও মানবপাচার চক্রের মূল হোতা সৌদি প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ!

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : সদর উপজেলার ফতুল্লার উত্তর মাসদাইর গাবতলী এলাকার হুন্ডি ব্যবসায়ী ও মানব পাচারের সাথে জড়িত দালাল চক্রের মূল হোতা সৌদি প্রবাসী মোঃ আশরাফুল ইসলাম সেন্টু (৩৫) নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে!
এ ঘটনায় ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় সরকার বাড়ির শাহাদাৎ হোসেন বকুল (৫৫) ও তার স্ত্রী জোস্না বেগম (৪২) এবং তার ছেলে সানিসহ আরো অজ্ঞাতনাম ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন হাজী মোঃ আসলাম বাবুল। যার নং-১২২২,তারিখ ১৬/০২/২০২০ইং।

অভিযোগের বিবরনে জানা যায়, চলতি মাসের গত ১৬ই ফেব্রয়ারী (রবিবার) ফতুল্লার থানার অভিযোগ নং-১২২২ এর ভিত্তিতে ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় শাহাদাৎ হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ । এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আশ্রয়স্থল থেকে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে পালিয়ে যায় আসামী দালাল চক্রের মূল হোতা সৌদি প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম সেন্টু । পুলিশ নিয়ে বিবাদী পক্ষের বাসায় যাওয়াতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীর বোনের জামাই সরকার বাড়ির শাহাদাৎ হোসেন বকুল ও তার স্ত্রী জোস্না বেগম এবং তার ছেলে সানি সহ আরো অজ্ঞাত নামা ৫/৬ জন বাদীপক্ষের উপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা চালায় । কিন্তু পুলিশের উপস্থিতির কারণে বাদী পক্ষের হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হলে শাহাদাৎ হোসেন বকুল না পেরে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীদের দিয়ে বাদীপক্ষকে লাঞ্ছিত করে । পরে বিবাদী পক্ষের হামলার কারণে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের (এস,আই) শুভ ও জালাল ক্ষিপ্ত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আরো জানা যায়, উত্তর মাসদাইরের মোঃ আশরাফুল ইসলাম সেন্টু একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী দালাল চক্রের সদস্য এবং বিদেশে লোকজন আনায়ন করে। সূত্র থেকে জানাযায়, পাকিস্তানী দালাল চক্রের সাথে মোঃ আশরাফুল ইসলাম সেন্টুর যোগসাজস রয়েছে। সে কারণে মাঝে মধ্যে বাংলাদেশে ১০/১৫ দিনের জন্য এসে ভিসা নিয়ে পাকিস্তানে চলে যায় । সেটার প্রমাণ তার পাসপোর্টের মধ্যে ভিসাসহ সিল পাওয়া যায়। জানা যায়,পাকিস্তানী দালাল চক্রের মাধ্যমে মহিলাদের কাজ দেওয়ার কথা বলে সৌদি আরব পাচার করে দেয়। পরিকল্পিত ভাবে কয়েক মাস আগে বিবাদীপক্ষের সেন্টুর দালালী ফাঁদে ভুক্তভোগী মিজান, আবীর ও জিয়াউল নামের তিনজনকে মোটা অঙ্কের বেতনের লোভ দেখিয়ে ভাল ভিসা ও সৌদি আরবের মার্কেটের সুপারভাইজারের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সৌদি আরব নিয়ে যায়। তিনজনের কাছ থেকে সর্বমোট ২১,০০,০০০/-(একুশলক্ষ) টাকা হাতিয়ে নেয়।

আরো জানা যায়, ভুক্তভোগী তিন জনকে সৌদি আরব নেওয়ার পর থেকে তাদের কোন প্রকার কাজ না দিয়ে উল্টো তাদের কাছ থেকে আরো মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করে এবং বলে, সৌদি কপিল বা মালিক কে সৌদি ভিসার উপর ট্যাক্স দেওয়ার জন্য মাসে মাসে বেতন থেকে তিনশ রিয়েল বাংলা টাকায় প্রাায় দুইলক্ষ টাকা সৌদি আরব কপিলকে দিতে হবে। কিন্তু সৌদি শ্রমিক আইনে এই টাকা না দিয়ে সৌদি কর ফাঁকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের টাকা আত্মসাৎ করে পরবর্তীতে তিনজন কে মানবেতর জীবনযাপন করিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে নিঃস্ব করে কয়েক মাস আগে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় ।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে আবির নামের এক ব্যাক্তিকে গত ২৪/০৫/১৭ইং তারিখে ও মিজান এবং জিয়াউলকে ২৯/০৬/১৭ইং তারিখে বিবাদী আশরাফুল ইসলাম সেন্টু সৌদি আরব নিয়ে যায়। মানবেতর জীবনযাপন করে মিজান ও আবির রক্ষা পেলে ও জিয়াউল এখনও দেশে আসতে পারছে না। কারন হিসাবে মোবাইলে তিনি জানান, তার পাসপোর্ট নাকি মোটা অঙ্কের টাকার জন্য দালাল আশরাফুল ইসলাম সেন্টু জব্দ করে রেখেছে । ভিসার অতিরিক্ত টাকা না দিলে পাসপোর্ট দিবে না বলে সাব জানিয়ে দিয়েছে। তার পরিবারের দাবী আমার ছেলেকে যেন জীবিত অবস্থায় বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হয়।

এছাড়াও গত ১৬/০২/২০২০ (রবিবার) সন্ধ্যায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক মোঃ শুভ ও জালালের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন । বাদী ও বিবাদী পক্ষদ্বয় আত্মীয় হওয়ায় পুলিশের এস,আই মোঃ শুভ ভুক্তভোগীদের বিদেশ ফেরত হয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়ায় ন্যায্য প্রাপ্যের ভিত্তিতে উভয়পক্ষকে লেনদেনের মিমাংসার জন্য সময় বেঁধে দেন এবং গ্রাম পর্যায়ে সালিশের সাহায্য নিতে বলেন উভয়পক্ষকে । ঐ দিন সন্ধ্যায় সামাজিক সালিশের আয়োজন করেন বাদী ও বিবাদী পক্ষের আত্মীয় স্বজনরা । কিন্তু বাদীপক্ষের উপর বিবাদীপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে চড়াও হয় এবং বলে বিদেশ ফেরত কোন নিঃস্ব ব্যক্তির ন্যায্য পাওনা টাকা তারা পরিশোধ করবেনা । এ ব্যাপারে সালিশি কার্যক্রম পন্ড করে এলাকার মুরব্বিদের অসম্মান করে বিবাদী সেন্টু ও তারআত্মীয় স্বজন সালিশি স্থানে অরাজকতা সৃষ্টি করে । বাধ্য হয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসলাম হোসেনের নির্দেশনায় অভিযোগের আয়ু মোঃ শুভ’র নেতৃত্বে এস,আই জালালসহ বাদী পক্ষ বিবাদীর আশ্রয়স্থল তার বোনের শ্বশুরবাড়ী শাহাদাৎ হোসেন বকুলের বাড়িতে যায় । মূলত: পুলিশি অভিযানের বিষয় ছিল সালিশি কার্যক্রম পন্ড ও অসাদাচরণ। তৃতীয় দফায় আত্মীয় বলে মিমাংসার আশ্বাসের স্থান, সময় উল্লেখ পূর্বক ফতুল্লা মডেল থানায় মিমাংসার দাবীতে হাজিরা দিতে বিবাদীদেরকে বলা হলে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীপক্ষের উপর চড়াও হয় তারা।

ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) জালাল অভিযোগের বিষয়ে জানান, ঘটনাটি অত্যান্তÍ ন্যাক্কার জনক। পুরো ঘটনাটি তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হতে পারে।