কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় যুবলীগ নেতা চাচা শ্যামল কারাগারে

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের খিল মার্কেট এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে ৫ ঘণ্টা এক কিশোরীকে আটক রেখে ধর্ষণ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান শ্যামল ওরফে দর্জি শ্যামল ও তুর্জকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) ভোরে কাশিপুর ইউনিয়নের খিলমার্কেট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে কাশিপুর ইউনিয়নে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও একই ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদের ছেলে।

এদিকে এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ আনিসুর রহমান শ্যামল ওরফে দর্জি শ্যামলকে কারাগারে প্রেরণ করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানায় এলাকাবাসী সূত্র থেকে জানাযায়, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সাইফ উল্লাহ বাদলের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত চাচা শ্যামল। চাচা শ্যামল তার নিজের অফিসে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে সালিশ বসিয়ে বিচার করেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় এলাকায় বেশ প্রভাব রয়েছে তার। এ ছাড়াও চলতি বছরের গত ২ জানুয়ারী স্থানীয় এলাকায় ধর্ষণের অপর একটি ঘটনার মামলায়(মামলা নং-৬৮(১০)১৯) বাদিনীকে চাচা শাম্যালের ভাই ছানাউল্লাহ একটি আপোষ নামায় জোর পূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তুর্জ ভুক্তভোগী কিশোরীকে প্রায় সময়ই উত্যক্ত করতো এবং প্রেমের প্রস্তাব দিতো। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে তুলে নিয়ে যাওয়ারও হুমকি দিতো সে। এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান শ্যামলের অফিসে গিয়ে বিচার দেয় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা। কিন্তু শ্যামল বিচার না করে উল্টো বাদীকে গালিগালাজ করে। এদিকে গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে আরবি পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীকে অপহরণ করে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। দীর্ঘ সময় মেয়েটি বাড়িতে না ফেরায় খুঁজতে বের হন মা। পরে তুর্জের বাড়ি থেকে মেয়েকে উদ্ধার করেন। তুর্জ তাকে ধর্ষণ করেছে বলে জানায় ভুক্তভোগী ওই কিশোরী। এ সময় আনিসুর রহমান শ্যামল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিচার করা হবে বলে তার অফিসে নিয়ে যায়। পরে কোন বিচার কিংবা পুলিশে খবর না দিয়ে অভিযুক্ত তুর্জকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে শ্যামল। এমনকি এ বিষয়ে থানায় মামলা করতেও নিষেধ করে সে।

গত মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে তুর্জ ও আনিসুর রহমান শ্যামলকে এজাহারনামীয় এবং আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসলাম হোসেন জানান, কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা করলে মামলার প্রধান আসামি তুর্জ ও বিচারের নামে শালিস বসিয়ে অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগে যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান শ্যামলকে গ্রেফতার করার পর মামলার প্রধান আসামী তুর্যকেও গ্রেফতার করা হয়।