আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করলো ঘাতক আব্বাস

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে শ্যালিকা ও দুই মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের ঘটনায় ঘাতক দুলাভাই আব্বাস মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালতে এ জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।

এর আগেরদিন বৃহস্পতিবার সকালে হত্যাকান্ডের পর বিকেলেই সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি ও পুলিশের একটি টিম। রাতেই ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত গৃহবধু নাজমিন বেগমের স্বামী সুমন মিয়া বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় বাদী সুমন উল্লেখ করেন, তার স্ত্রীর বড় বোন ইয়াসমিনের সাথে স্বামী আব্বাসের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। বিভিন্ন সময় এই কলহের কারণে তার স্ত্রী নাজমিনের বড় বোন ইয়াসমিনের পক্ষ নিয়ে কথা বলায় আব্বাসের সাথে মনোমালিন্য হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে আব্বাস ও তার স্ত্রী ইয়াসমিনের ঝগড়া হলে বাদী সুমনের শ্যালক হাসান বড় বোনের স্বামী আব্বাসকে চর থাপ্পরসহ মারধর করে এবং পরদিন সকালে হাসান তার বড় বোন ইয়াসমিন ও তার মেয়ে সুমাইয়া সহ সুমনের বাসায় বোন নাসরিনের কাছে চলে আসে। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় সুমন কর্মস্থল সিদ্ধিরগঞ্জস্থ জোনাকী পেট্রোল পাম্প থেকে মিজমিজি সিআইখোলাস্থ আনোয়ার মালিকানাধীন ৬তলা ভবনের ভাড়া বাসায় এসে স্ত্রী ও সন্তানদের গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ এবং তার স্ত্রীর বড় বোনের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকে (১৫) রক্তাক্ত আহত অবস্থায় খাটের উপর জীবিত দেখতে পায়। পরে ঘটনাটি তার শ্যালক হাসানকে ফোন করে জানালে কর্মস্থল থেকে শ্যালক হাসান ও স্ত্রীর বড় বোন বাসায় আসে এবং হাসান জরুরী ভিত্তিতে সুমাইয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আজিজুল হক জানান, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আব্বাসকে চর-থাপ্পর দেওয়ার পূঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটিয়েছে জানায়। বৃহস্পতিবার সকালে একটি ধারালো ছোড়া নিয়ে ফ্ল্যাটে যায়। প্রথমে সুমনের স্ত্রী নাজমিন ও তার দুই কন্যা সন্তান নুসরাত ও সায়মার গলা কেটে হত্যা করে। এসময় চিৎকার চেচামেচি করলে তার নিজের মেয়ে প্রতিবন্ধি সুমাইয়াকেও ছোড়া দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এসআই মোঃ কামাল হোসেন জানান, ৩ খুন মামলার আসামী আব্বাস দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের সিআই খোলা এলাকার আনোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন ছয় তলার ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে সংবাদ সম্মেলনে তিন খুনের ঘাতক আব্বাস মিয়াকে হাজির করা হয়। এ সময়ে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘বৃহস্পতিবার সকালে হত্যাকান্ডেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুপুরে আব্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে। ইতোমধ্যে সে জানিয়েছে শ্যালক তাকে চড় মারার কারণেই ক্ষোভ থেকে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে সে। তাছাড়া প্রায়শই আব্বাসের স্ত্রী ও মেয়ে নাকি শ্যালক ও শ্যালিকার বাসয় চলে যেত। তাই সে মনে মনে ঠিক করে এ বাড়ির অস্তিত্বই রাখবেনা সে, যাতে করে আর এ বাড়িতে না আসতে পারে তার পরিবার। তিনি আরো জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থান শনাক্ত করে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার হাউসের পাশের একটি কমিউনিটি সেন্টারের পর্দা ঘেরা টেবিলের নিচ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে জানায় প্রথমে শ্যালিকাকে গলা কেটে হত্যা করে পরে একে একে শ্যালিকার দুই সন্তানকে হত্যা করে সে। সবার শেষে নিজের প্রতিবন্ধী মেয়েকে সামনে পেয়ে তাকেও কুপিয়ে জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়।