আমরাতো ক্ষমতায় এসেও প্রতিশোধ নেইনি – শামীম ওসমান

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আরহাজ¦ এ,কে,এম শামীম ওসমান বলেছেন, আমি জীবনেও নেতা হতে পারবো না কারন আমার স্বার্থ আছে। আর মুজিবের সৈনিক কর্মীদের চাওয়া পাওয়া নাই নিঃস্বার্থবান। জাতির জনকের অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে নারায়ণগঞ্জের নাম বার বার উল্লেখ করা আছে। কারন নারায়ণগঞ্জের বায়তুল আমানে আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছে এবং স্বাধীনতার সনদ লেখা হয়েছে।

শনিবার ( ৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় শহরের মিশনপাড়া এলাকায় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭৯ সালে যখন বঙ্গবন্ধু হত্যার নীল নকশাকারী জিয়াউর রহমানের নারায়ণগঞ্জে আসার খবর পেলাম তখন আমরা চাষাড়ায় অবস্থান নেই। তখন জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে দিলাম। স্লোগান দিলাম, খুনী জিয়ার গদীতে আগুন জ¦ালাও একসাথে। আমাদের উপর এ্যাটাক কর হলোা। ৭ জন ছেলে ছিলাম কিন্তু কেউ দৌড় দেইনি। আমাদেরকে বেধরক মারধর করা হয়েছে। আমরা সেই খেলোয়াড়। তাই বলবো, আমাদের সাথে খেলার চেষ্টা করবেন না।

তিনি আরো বলেন, বাবা মায়ের পর যদি কাউকে মানি, কারো জন্য জীবন দিতে পারি, তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭৫ এর পর আমরা যারা রাজনীতিতে এসেছি তারা কেউই কখনো ভাবিনি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার কথা। কারন আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শেও রাজনীতি করি আর তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক মা মনে করি। এসময় তিনি আরো বলেন, এই মিশনপাড়া এলাকার একটি বাড়িতেই ছিলো জামায়াতের কার্যালয়। এ বাড়ি থেকেই আমার ছোট বোনকে টাকা দেওয়া হয় আর এ বাড়িতেই গোলাম আজমরা এসে থাকতো। আমরাই প্রথম নারায়ণগঞ্জে গোলাম আজমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করি। সাইনবোর্ড এলাকাতে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হলো, নারায়ণগঞ্জে গোলাম আজমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। মজলিশের সূরার কমিটিতে আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়। আমরা শুরু করেছিলাম পরবর্তীতে সেটা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদীতেও গেলাম আজমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ডকে বলেছিলেন, তোমাকে হত্যা করা হবে। আমি বলেছিলাম, যুদ্ধ হবে সামনা সামনি। কারন ওরা আসবে ১ হাজার আর আমরা মাত্র দুইজনই যথেষ্ট। কিন্তু বুঝতে পারিনি ওরা কাপুরুষের মতো পেছন থেকে হামলা করবে। ১৬ জুন চাষাড়ায় আওয়ামীলীগ অফিসে বোমা হামলা করা হলো। কিন্তু আমরাতো ক্ষমতায় এসেও প্রতিশোধ নেইনি। কারন আমরা স্বাধীনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া একেএম সামসুজ্জোহার ছেলে।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীলের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ মোঃ বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আবু জাফর চৌধুরী বিরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সহ-সভাপতি রবিউল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর এড. ওয়াজেদ আলী খোকন, সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. সামসুল ইসলাম ভূইয়া, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ জুয়েল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহমেদ, মহানগর কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জিল্লুর রহমান লিটন, মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, ফতুল্লা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানী, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রাফেল, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু সহ বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে আগত নেতাকর্মীরা।