আওয়ামীলীগ নেতা ও তার ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ফদুল্লার উত্তর কাশিপুর এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা শফিউল্লাহ শফি (৫০) ও তার ছেলে সনম (২০) কে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে স্থানীয় ইজি বাইক চাঁদাবাজ শাহিন আলম ওরফে অটো শাহিনের নেতৃত্বে একদল দূর্বিত্ত। এ ঘঁনায় ফতুল্লা মডেল থানায় এশটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়ধীন রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়।

শুক্রবার (১৪জুন) দুপুর ১টার দিকে ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নে উত্তর কাশিপুর এলাকায় মুজদালিফা জামে মসজিদে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে এ হামলা চালায় ইজি বাইক চাঁদাবাজ অটো শাহিন সহ আরো ১০/১২ জনের একদল দূর্বিত্ত।

হামলার ঘঁনায় অভিযুক্তরা হলেন, স্থানীয় এলাকার জজ মিয়ার ছেলে ইজি বাইক চাঁদাবাজ শাহিন আলম (৪০), হাকিম মিয়ার ছেলে সৈকত (২৪), খোকন (৩০), সিরাজ (২৮),কবির (২৫) সহ আরো ৭/৮জন।

ঘটনার বিবরনে গুরুতর আহত ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শফিউল্লাহ শফি জানান, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে তার ছেলে সনমকে সাথে নিয়ে স্থানীয় এলাকার মুজদালিফা জামে মসজিদে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে ইজি বাইক চাঁদাবাজ অটো শাহিনের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একদল দূর্বিত্ত কোন কিছু বুঝে উাার আগেই এলোপাথারীভাবে তাকে ও তার ছেলে সনমকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে। এ সময় তার দুই পায়ের উরুতে এলোপাথারীভাবে চাপাতির কোপে মারাতœক রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েরন। এ সময় তাকে বাঁচাতে তার ছেলে সনম এগিয়ে আসলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় দূর্বিত্তরা।

তিনি আরো জানান, গত ০৪/০৫/২০১৯ইং তারিখে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাহিন আলমের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একদল দূর্বিত্ত তার নিকট ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করলে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় ০৭/০৫/২০১৯ইং তারিথে মামলা নং-৩০/৪৫২ দায়ের করলে কারাবরন করেন শাহিন আলম সহ আরো কয়েক জন। দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় কাশিপুর ভোলাইল এলাকায় প্রকাশ্যে দিনের বেলায় গত ২০১৮ সালের জুন মাসে ইজি বাউক চালকদেও কাছ থেকে চাঁদা আদায়কালে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ হাতে না হাতে কয়েকজন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করার পর শাহিন আলম সহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের হয়। তাছাড়া মাদক সহ নানা অপরাধের সাথে সে জরিত। স্থানীয় এলাকায় যুবলীগ নামধারী একজন নেতা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয় শাহিন আলম। বর্তমানে তিনি তার পরিবার পরিজন নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন। আবোরা তার উপর হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ ১’শ শয্যা বিশিষ্ট জেনালের (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের হরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ নুরুজ্জামান জানান, তাদের শরীরের দুই পায়ে ও হাতে ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। দুজনের শরীরে প্রায় ৩০টিরও অধিক সেলাই দেয়া হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরন হওয়ায় রোগীকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসলাম হোসেন জানান, থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) আবুল কাশেমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।