আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ১৫

রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ ২৪ : নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ফতুল্লার রামারবাগ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটনায় দুই পক্ষের আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

শুক্রবার (২২ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টায় ফতুল্লার রামারবাগ শাহী মসজিদ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীদের মহড়া দিতে দেখা যায়।

স্থানীয় এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুবলীগের মোস্তফা গ্রুপের সাথে দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্ধ চলছিল একই এলাকার যুবলীগের প্রতিপক্ষ গিয়াসউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে। শুক্রবার রাতে মাদক বিরোধী অভিযানের মিছিল চলাকালে মোস্তফা গ্রুপের এক সদস্যকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে গিয়াসউদ্দিনের লোকজন।

মারধর শেষে যাওয়ার সময় মোস্তফা গ্রুপের সদস্যরা লাঠিসোটা, লোহার পাইপ, রামদা ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র সহ হামলা চালায় গিয়াসউদ্দিন গ্রুপের লোকজনদের উপর। এসময় এক নারী সহ ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ২ জনকে ঢাকা মেডিকেল ও ২ জনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আহত অন্যান্যদের শহরের খানপুর ৩শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর ৩শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অমির রায় জানান, ফতুল্লা থেকে আসা আহতদের অধিকাংশই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাথায় ও পায়ে গুরুতর জখম হওয়া রোগীই বেশী। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমরা ৪ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

শহরের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোঃ রাজিব জানান, মোস্তফা গ্রুপের লোকজন দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় মাদক ব্যাবসা করে আসছিলো। আমরা এলাকাবাসী মাদক বিরোধী মিছিল নিয়ে তাদের বাধা দেয়ায় এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা হচ্ছে মোস্তফা, রাজিব, আজিম, বাবু, রাজ্জাক সহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান রাজীব।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ মোঃ মঞ্জুর কাদের জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষর ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে।